আলিবাবায় পণ্য পছন্দ হয়েছে, সাপ্লায়ারের সাথে কথাও এগিয়েছে। এখন কার্টে গিয়ে দেখা যাচ্ছে শিপিং অপশনে একটা অঙ্ক বসে আছে, আর সেটা পণ্যের দামের সাথে তুলনায় অস্বাভাবিক বড়। প্রশ্নটা এখানেই শুরু হয় — আলিবাবা থেকে পণ্য কেনার নিয়ম কি ওই বাটনটা চাপা, নাকি অন্য পথ আছে।
অন্য পথ আছে। সেটা বেছে নেওয়ার মুহূর্তটা অর্ডার দেওয়ার আগে, কারণ একবার টাকা চলে গেলে কার্টনটা কোথায় যাবে সেই সিদ্ধান্তটা আর ফেরানো যায় না।
আলিবাবা থেকে বাংলাদেশে পণ্য আসে কি না
আসে। দুটো আলাদা পথে আসে, আর পথ দুটোর মধ্যে পণ্যের কোনো তফাত নেই — একই সাপ্লায়ার, একই কার্টন। আলাদা হয় শুধু সেটা প্রথমে কার হাতে যাচ্ছে।
প্রথম পথ: সাপ্লায়ারকে সরাসরি বাংলাদেশে পাঠাতে বলা। আলিবাবা এই কাজের জন্যই বানানো, তাই বেশিরভাগ সাপ্লায়ার রাজি হবেন। বিনিময়ে আপনি তাদের বেছে নেওয়া ক্যারিয়ার, তাদের ঠিক করা হার আর তাদের প্যাকিং মেনে নিচ্ছেন। ওজন কীভাবে ধরা হলো, একাধিক সাপ্লায়ারের কার্টন একসাথে করার সুযোগ ছিল কি না, প্যাকিং আঁটসাঁট হলো কি না — এগুলোর কোনোটাই তখন আপনার হাতে থাকে না।
দ্বিতীয় পথ: সাপ্লায়ারকে চীনের ভিতরেই একটা ঠিকানায় পাঠাতে বলা। তার জন্য চীনে আপনার একটা ঠিকানা লাগে। সাপ্লায়ারের দিক থেকে এটা তখন নিছক ঘরোয়া ডেলিভারি — যে কাজটা তিনি রোজ করেন, কাস্টমসের কাগজপত্র বা আন্তর্জাতিক কুরিয়ার ছাড়াই। এরপর দেশে আনার ধাপটা আলাদা করে চলে, এবং তখন ওজন-আয়তনের হিসাবটা আপনি অর্ডার দেওয়ার আগেই দেখে নিতে পারেন।
শিপিং অপশনের ড্রপডাউনটা আসলে পণ্যের সিদ্ধান্ত নয়, ফ্রেইটের সিদ্ধান্ত। কার্টে যে অঙ্কটা দেখাচ্ছে সেটা সাপ্লায়ারের ফ্রেইট, আর সাপ্লায়ার ফ্রেইটের ব্যবসা করেন না — তিনি পণ্যের ব্যবসা করেন।
আলিবাবা আর 1688 — একই পণ্য, দুই বাজার
একই কারখানার একই পণ্য দুই জায়গায় দুই দামে থাকতে পারে। কারচুপি ভেবে বসার আগে মনে রাখা ভালো, প্ল্যাটফর্ম দুটো তৈরিই হয়েছে দুই রকম ক্রেতার কথা ভেবে। আলিবাবা রপ্তানির জন্য, ইংরেজিতে, বিদেশি ক্রেতার কথা ভেবে। 1688 চীনের ভিতরের পাইকারি বাজার, চীনা ভাষায়, ঘরোয়া ক্রেতার জন্য।
| যা দেখবেন | আলিবাবা | 1688 |
|---|---|---|
| কার জন্য বানানো | বিদেশি পাইকারি ক্রেতা | চীনের ভিতরের পাইকারি ক্রেতা |
| ভাষা | ইংরেজি | চীনা |
| বিদেশে পাঠায় | হ্যাঁ, এই কাজের জন্যই | সাধারণত না — ঘরোয়া ডেলিভারি |
| ন্যূনতম অর্ডার | রপ্তানিমুখী, প্রায়ই বেশি | ঘরোয়া, প্রায়ই কম |
| চীনে ঠিকানা ছাড়া চলে | চলে | চলে না |
এখান থেকে একটা কাজের কথা বেরোয়। 1688 বিদেশে পাঠায় না বলে অনেকে ধরে নেন ওটা তাঁদের জন্য নয়। আসল বাধাটা প্ল্যাটফর্মের নয়, ঠিকানার — চীনের ভিতরে একটা ঠিকানা থাকলে ঘরোয়া প্ল্যাটফর্মও খুলে যায়। প্রথমবার আলিবাবা দিয়ে শুরু করাই সহজ। ভাষার ঝামেলা কম, যোগাযোগও সোজা।
টাকা পাঠানোর আগে সাপ্লায়ারের কাছে যা জানতে হবে
চারটে প্রশ্ন, চারটেই অর্ডারের আগের। পরে জিজ্ঞেস করলে উত্তর বদলায় না, কিন্তু ততক্ষণে সিদ্ধান্তটা নেওয়া হয়ে গেছে।
01
প্যাক করা কার্টনের মাপটা চেয়ে নিন। পাতায় যে মাপ লেখা থাকে সেটা পণ্যের, আর বিল হয় কার্টনের উপর। দুটো এক জিনিস নয়। তিন মাপ আর ওজন হাতে থাকলে অর্ডারের আগেই হিসাবটা কষে ফেলা যায় — চার্জেবল ওজন কোন ভিত্তিতে বসে লেখাটায় ধাপগুলো আলাদা করে ধরা আছে।
02
দামের সাথে চীনের ভিতরের ডেলিভারি ধরা আছে কি না। ধরা না থাকলে সেটা আলাদা খরচ। আর যে খরচটা অর্ডারের সময় চোখে পড়ে না, সেটাই পরে গিয়ে হিসাব এলোমেলো করে দেয়। প্রশ্নটা এক লাইনের, উত্তরটাও।
03
ন্যূনতম অর্ডার কীসের উপর। মোট পিসের উপর, নাকি প্রতিটা ভ্যারিয়েন্টের উপর আলাদা করে। এক পোশাকের তিনটে মাপ নিতে গিয়ে ন্যূনতমটা তিন গুণ হয়ে যাওয়া নতুন আমদানিকারকের খুব চেনা ধাক্কা।
04
কার্টনের ভিতরে ঠিক কী যাচ্ছে। প্যাকিং লিস্ট এখান থেকেই তৈরি হয়। আর পণ্যটা যদি প্রসাধনী, বেতার-যন্ত্র বা ব্যাটারিওয়ালা কিছু হয়, প্রশ্নটা অর্ডারের আগে তোলার জিনিস। কয়েক ধরনের প্রসাধনীতে BSTI-র মান সনদ লাগে। ওয়াকিটকি বা সিগন্যাল বুস্টারের মতো যা বেতার সংকেত পাঠায়, তাতে লাগে BTRC-র অনুমোদন। আর আলগা লিথিয়াম ব্যাটারি বা পাওয়ার ব্যাংক আমাদের আকাশপথে একেবারেই যায় না — IATA-র নিয়মে এগুলো বিপজ্জনক পণ্য, আর ক্যারিয়ার নেয় না।
টাকা পাঠানো আর কার্টন বুঝে নেওয়া
বিদেশি সাপ্লায়ারকে টাকা পাঠানো একটা বৈদেশিক মুদ্রার লেনদেন। সেটার নিয়ম ঠিক করে বাংলাদেশ ব্যাংক, আর প্ল্যাটফর্মের শর্তের সাথে তার সম্পর্ক নেই। কোন পদ্ধতিতে আপনি পাঠাতে পারবেন সেটা আপনার ব্যাংক বা লেনদেন সেবাদাতার কাছ থেকে জেনে নেওয়াই ঠিক পথ, কারণ এটা অ্যাকাউন্টভেদে আলাদা।
প্ল্যাটফর্মের নিজস্ব সুরক্ষা বা এসক্রো সুবিধা থাকলে সেটা কাজে লাগে, তবে একটা প্রশ্ন আগে মিটিয়ে নেওয়া দরকার: সেই সুরক্ষা আপনার নিজের ঠিকানায় পৌঁছানোর উপর নির্ভর করে, নাকি চীনের ভিতরের ঠিকানায় পৌঁছালেও টেকে। উত্তরটা প্ল্যাটফর্মের শর্তে লেখা থাকে, আর ধরে নেওয়ার চেয়ে পড়ে নেওয়া সস্তা।
কার্টন চীনের ঠিকানায় পৌঁছালে বাকি পথটা শুরু হয় — বুঝে নেওয়া, ছবি তোলা, একসাথে করা, তারপর ফ্রেইট আর কাস্টমস। শিপিং মার্কের লাইনটা কীভাবে লিখতে হয় আর দেশে পৌঁছানোর পর কী কী ঘটে, সেটা চীন থেকে আমদানির পুরো এগারো ধাপ লেখাটায় ধরা আছে। খরচের ভাগটা কোথায় কীভাবে দাঁড়ায় তার হিসাব রাখা আছে ফ্রেইট ও খরচ বিভাগে।
প্রশ্ন ও উত্তর
আলিবাবা কি বাংলাদেশে ডেলিভারি দেয়
বেশিরভাগ সাপ্লায়ার দেন। তবে তখন ক্যারিয়ার, হার আর প্যাকিং সাপ্লায়ারের পছন্দে ঠিক হয়, আর একাধিক সাপ্লায়ারের কার্টন একসাথে করার সুযোগটা থাকে না।
বাংলাদেশ থেকে আলিবাবায় অর্ডার করা যায় কি
যায়। অ্যাকাউন্ট খোলা আর সাপ্লায়ারের সাথে কথা বলায় বাধা নেই। বাধাটা সাধারণত টাকা পাঠানোর পদ্ধতিতে আর কার্টন কোথায় যাবে সেই সিদ্ধান্তে।
প্রথম অর্ডারে কতটা নেওয়া উচিত
বিলের একটা সর্বনিম্ন আছে — আকাশপথে 0.5 kg, সমুদ্রপথে 0.5 CBM। আকাশপথে সীমাটা ছোট। সমুদ্রপথে কিন্তু 0.5 CBM অনেকটা জায়গা: 60 × 50 × 50 cm মাপের 3টা কার্টনেও তা ভরে না। তাই খুব ছোট চালান সি-তে পাঠালে খালি জায়গার দামও দিতে হয়। নমুনা নিতে হলে সেটা আলাদা কথা, কিন্তু নমুনার খরচকে পাইকারি হিসাবের মাপকাঠি ধরা ঠিক নয়।
সাপ্লায়ার কার্টনের মাপ দিতে না চাইলে
অনেক সময় মাপ তাঁদের হাতেই থাকে না। ঘরোয়া ক্রেতা কখনো চান না বলে মাপা হয়নি, এটুকুই। তখন প্রতি কার্টনে কত পিস যায় সেটা জেনে নিলেও কাজ চলে — কার্টন পৌঁছানোর পর মেপে নেওয়া যায়, আর তখন পরের অর্ডারের হিসাবটা হাতে থাকে।
মাপ হাতে এলে হিসাবটা মিলিয়ে নিন
সাপ্লায়ারের দেওয়া কার্টনের মাপ আর ওজন বসালেই চার্জেবল ওজন কোন ভিত্তিতে দাঁড়াচ্ছে দেখা যায় — সাইনআপ ছাড়াই।