একই ব্যাগ, একই কারখানার ছবি, অথচ আলিবাবার চেয়ে 1688-এ দাম কম। তারপর পাতাটা খুললে সব চীনা অক্ষরে, আর চেকআউটে চাওয়া হচ্ছে চীনের ঠিকানা আর চীনের মোবাইল নম্বর। 1688 থেকে পণ্য কেনা যায় কি না, সেই সন্দেহটা সাধারণত এখানেই জন্মায়।
কেনা যায়। বাধা তিনটে — ভাষা, ঠিকানা আর টাকা দেওয়া। ঠিকানার সমস্যাটা সবচেয়ে সহজে মেটে, ভাষারটা যতটা ভয়ের মনে হয় ততটা নয়। আসল গিঁট টাকায়, আর সেটা নিয়ে সোজা কথাটা নিচে আলাদা করে বলা আছে।
1688 কি বাংলাদেশে পাঠায়
সাধারণত না। 1688 আলিবাবা গ্রুপেরই প্ল্যাটফর্ম, কিন্তু বানানো চীনের ভিতরের পাইকারি কেনাবেচার জন্য। বিক্রেতারা অভ্যস্ত দেশের ভিতরের কুরিয়ারে পার্সেল ছাড়তে, রপ্তানির কাগজ তৈরি করতে নয়। আলিবাবা আর 1688 পাশাপাশি রাখলে কোথায় তফাত — ভাষা, ন্যূনতম অর্ডার, বিদেশে পাঠানো — সেটা আলাদা করে সাজানো আছে।
তাই প্রশ্নটা ঘুরিয়ে করতে হয়। 1688 বাংলাদেশে পাঠায় কি না, সেটা নয় — চীনের কোন ঠিকানায় পাঠাবে। লজিবাংলার ওয়্যারহাউজ Guangzhou-তে, আর বিক্রেতার খাতায় সেটা আর দশটা অর্ডারের মতোই একটা স্থানীয় ঠিকানা। সেখান থেকে বাকি পথ আমাদের: পার্সেল বুঝে নেওয়া, একসাথে করা, ফ্রেইট আর কাস্টমস ছাড়।
চীনা পাতাটা কীভাবে পড়বেন
মোবাইলের Chrome-এ মেনু থেকে Translate বেছে নিলে পাতার বেশিরভাগটা ইংরেজি বা বাংলায় পড়া যায়। অনুবাদ কাজ চালানোর মতো, নিখুঁত নয়। আর গোলমালটা হয় ঠিক সেই ঘরগুলোয় যেখানে টাকা জড়িত — ভ্যারিয়েন্টের নাম, দামের একক, পরিমাণভেদে দাম।
দামের ঘরে কয়েকটা সংখ্যা পাশাপাশি থাকলে সেগুলো পরিমাণের ধাপ: বেশি নিলে প্রতি পিসে কম। নিচের কয়েকটা শব্দ চীনা অক্ষরেই চিনে রাখুন, অনুবাদ যা-ই দেখাক।
| পাতায় লেখা | মানে | কী মিলিয়ে দেখবেন |
|---|---|---|
| 起批量 | ন্যূনতম অর্ডার | সংখ্যাটা মোট পিসে, নাকি প্রতি রং-সাইজে আলাদা |
| 件 · 套 · 箱 | পিস · সেট · বাক্স | দামটা কোন এককে — বাক্সের দামকে পিসের দাম ভাবলে হিসাব উল্টে যায় |
| 规格 · 颜色 · 尺码 | ভ্যারিয়েন্ট · রং · সাইজ | নামটা ছবির সাথে মেলে কি না |
| 运费 | চীনের ভিতরের ডেলিভারি খরচ | দামের সাথে ধরা, নাকি আলাদা যোগ হবে |
| 收货人 | প্রাপক | ওয়্যারহাউজের লোকের নাম, আপনার নয় |
| 手机号码 | মোবাইল নম্বর | ওয়্যারহাউজের নম্বর |
| 运单号 | ট্র্যাকিং নম্বর | পার্সেল ছাড়ার পর এটাই চেয়ে নেবেন |
1688-এর দামটা বিক্রেতার দোকান পর্যন্ত, Dhaka পর্যন্ত নয়। 运费 আলাদা থাকলে সেটা যোগ হয়, তারপর ফ্রেইট, তারপর শুল্ক আর ভ্যাট। ফ্রেইটের অংশটা কার্টনের মাপ থেকে আগেই বের করা যায় — প্রকৃত আর আয়তনিক ওজনের কোনটায় বিল হয় সেটা জানা থাকলে। কম দামটা সত্যিই কম কি না, বোঝা যায় এই যোগফলের পরে।
অর্ডারের ধাপ — ঠিকানার ঘর থেকে ট্র্যাকিং নম্বর
01
ঠিকানাটা লাইন ধরে কপি করুন। সাইনআপের পর পোর্টালে ওয়্যারহাউজের পুরো ঠিকানা আসে, প্রতিটা লাইন তার নাম সহ। Recipient ঘরে থাকে ওয়্যারহাউজের লোকের নাম, ফোনের ঘরে ওয়্যারহাউজের নম্বর — দুটোই যেমন আছে তেমন বসবে। আপনার পরিচয় যায় Shipping Mark লাইনে: LogiBangla/আপনার নাম। চীনের কুরিয়ারের কাছে পার্সেলটা ওয়্যারহাউজের লোকের; ওয়্যারহাউজের কাছে সেটা আপনার, আর সেটা বোঝা যায় শুধু ওই মার্ক দেখে।
02
মার্ক আর প্যাকিং লিস্টের কথা টাকা দেওয়ার আগেই তুলুন। দেশের ভিতরের ক্রেতাকে পাঠানো পার্সেলে 1688-এর বিক্রেতারা সবসময় প্যাকিং লিস্ট দেন না। অথচ ওয়্যারহাউজের শর্তে প্যাকিং লিস্ট ছাড়া আসা পণ্য গ্রহণ করা হয় না। লিস্টে লাগে কার্টন নম্বর, শিপিং মার্ক, পণ্যের নাম, আর প্রতি কার্টনে কত পিস, কত ওজন, কী মাপ। ব্যাটারি, তরল, পাউডার বা চুম্বকওয়ালা কিছু থাকলে সেটা আলাদা করে লেখা চাই — আর পণ্যটাই যদি BTRC বা BSTI-র অনুমোদনের তালিকায় পড়ে, প্রশ্নটা অর্ডারের আগে মেটানোর। বিক্রেতা রাজি না হলে অর্ডারের আগে জানলে অন্য দোকানে যাওয়ার পথ খোলা থাকে।
03
পার্সেল ছাড়লে 运单号 জানিয়ে দিন। বিক্রেতা পাঠানোর পর অর্ডারের পাতায় ট্র্যাকিং নম্বর ওঠে। সেটা পোর্টালে বা WhatsApp-এ দিলে পার্সেল ওয়্যারহাউজে নামার দিনই আপনার নামে যোগ হয়। নম্বর না দিলে ভরসা শুধু মার্ক, আর বিক্রেতা মার্ক লিখতে ভুললে পার্সেলটা কার, সেটা খুঁজে বের করতে সময় যায়।
04
কয়েক দোকান থেকে কিনলে সবখানে একই মার্ক। 1688-এ এক দোকানে সব পাওয়া কম হয় — ব্যাগ এক জায়গা থেকে, চেন আরেক জায়গা থেকে। প্রতিটা দোকান আলাদা পার্সেল পাঠাবে। সবগুলো একই মার্কে এলে ওয়্যারহাউজ সেগুলো জোড়া দিয়ে এক চালানে ছাড়ে। বেশিরভাগ চালান ওয়্যারহাউজে পৌঁছানোর 3-4 দিনের মধ্যে রওনা হয়। কোনো দোকান দেরি করলে বাকি পার্সেল অপেক্ষা করতে পারে, 30 দিন পর্যন্ত বিনা ভাড়ায় — তবে ওটা শেষ সীমা, রোজকার নিয়ম নয়।
টাকা দেওয়ার প্রশ্নটা কোথায় আটকায়
1688-এর চেকআউট চীনের ভিতরের ক্রেতার কথা ভেবে বানানো, তাঁদের চেনা পেমেন্ট ব্যবস্থা ধরে। বাংলাদেশ থেকে সেখানে টাকা দেওয়া মানে বিদেশে টাকা পাঠানো, আর তার নিয়ম বাঁধে বাংলাদেশ ব্যাংক। কোন পথ আপনার জন্য খোলা, সেটা আপনার ব্যাংকই নির্দিষ্ট করে বলতে পারবে — লেনদেনের ধরন আর অ্যাকাউন্ট দেখে উত্তর বদলায়।
এই ধাপেই অনেকে এজেন্টের কাছে যান। এজেন্ট আপনার হয়ে দোকানে অর্ডার দেন আর ইউয়ানে দাম মেটান, আপনি টাকা দেন এজেন্টকে। তখন পণ্যের দামের সাথে এজেন্টের ফি জোড়া লাগে। কোন অংশ কী বাবদ, আলাদা করে দেখতে চাইলে সেটা চেয়ে নিতে হয়।
কে কিনল, ওয়্যারহাউজের কাছে সেটা প্রশ্ন নয় — প্রশ্ন মার্ক আর প্যাকিং লিস্ট। এজেন্টের মাধ্যমে কিনলেও ডেলিভারির ঠিকানায় আপনার ওয়্যারহাউজের ঠিকানা আর আপনার মার্ক থাকলে পার্সেল আপনার নামেই ওঠে, আর ফ্রেইট থাকে নিজের আলাদা লাইনে।
1688 নিয়ে আরও চারটে প্রশ্ন
1688 কি সরাসরি বাংলাদেশে পাঠায়?
বেশিরভাগ বিক্রেতা পাঠান না, কারণ তাঁদের ব্যবসা চীনের ভিতরে। চীনের একটা ঠিকানা দিলে সমস্যাটা থাকে না — Guangzhou-র ওয়্যারহাউজে পাঠানো তাঁদের কাছে সাধারণ স্থানীয় ডেলিভারি।
1688 ইংরেজিতে দেখা যায়?
ব্রাউজারের অনুবাদ দিয়ে পাতা ইংরেজি বা বাংলায় পড়া যায়। ভ্যারিয়েন্ট, মাপ আর দামের একক মেলাতে অবশ্য ছবি আর চীনা শব্দটাই বেশি নির্ভরযোগ্য।
1688-এ পেমেন্ট কীভাবে করব?
চেকআউট চীনের ভিতরের পেমেন্ট ধরে বানানো। বাংলাদেশ থেকে কোন পথে বৈধভাবে টাকা দেওয়া যায়, সেটা বাংলাদেশ ব্যাংকের নিয়মে বাঁধা আর ব্যাংকভেদে আলাদা, তাই শুরুটা আপনার ব্যাংকে জিজ্ঞেস করে। অনেকে এই অংশটা এজেন্টকে দিয়ে করান।
1688 থেকে কিনতে কি এজেন্ট লাগে?
বাধ্যতামূলক নয়। এজেন্ট যে দুটো সমস্যা মেটান তার একটা, চীনের ঠিকানা, ওয়্যারহাউজের ঠিকানাতেই মেটে। বাকি থাকে পেমেন্ট আর বিক্রেতার সাথে কথা বলা — এই দুটো নিজে সামলাতে পারলে এজেন্ট ছাড়াই চলে।
1688-এর দামের পাশে ফ্রেইটটাও বসান
বিক্রেতার কাছে কার্টনের তিন মাপ আর ওজন চেয়ে নিন, বসান — কোন ওজনে বিল হবে সঙ্গে সঙ্গে দেখা যায়, সাইনআপ ছাড়াই।