অর্ডার দেওয়া হয়ে গেছে, সাপ্লায়ার কার্টন বাঁধছে। এবার একটা প্রশ্ন সামনে আসে যেটা পরে বদলানো কঠিন: এয়ার না সি শিপমেন্ট। বেশিরভাগ মানুষ এর উত্তর খোঁজেন ভাড়ার তালিকায়। কিন্তু ভাড়া মেলানোর আগে আরেকটা জিনিস জানা দরকার — দুই পথে আপনার চালানের বিল হবে দুই আলাদা এককে। এয়ারে কেজিতে, সাগরে ঘনমিটারে। এই দুটো হিসাব হাতে না থাকলে কোন পথ সস্তা পড়ল, সেই তুলনাটাই ভুল জায়গা থেকে শুরু হয়।
নিচে চারটে জিনিস ধরে সিদ্ধান্তটা সাজানো: চার্জেবল ওজন বনাম CBM, পণ্যের ধরন, টাকা কতদিন আটকে থাকবে, আর তাড়া কতটা। কোনোটাতেই ভাড়ার অঙ্ক লাগে না। লাগে কার্টনের মাপ আর ওজন।
দুই পথে বিল হয় দুই এককে
এয়ার ফ্রেইটে বিল হয় চার্জেবল ওজনে। কার্টনের প্রকৃত ওজন আর আয়তনিক ওজনের মধ্যে যেটা বেশি, সেটাই চার্জেবল। আয়তনিক ওজন বের করতে কার্টনের তিন মাপ সেন্টিমিটারে গুণ করে 6000 দিয়ে ভাগ করা হয়। হিসাবটা লাইন ধরে দেখতে চাইলে প্রকৃত আর আয়তনিক ওজনের কোনটা বিলে ওঠে পড়ে নিন।
সি ফ্রেইটে ওজনের প্রশ্নটা মুখ্য নয়। জাহাজে জায়গাই আসল সীমা, তাই বিল হয় আয়তনে — একই তিন মাপ গুণ করে 1,000,000 দিয়ে ভাগ করলে CBM পাওয়া যায়। দুই পথেই সর্বনিম্ন 0.5 ধরা হয়: এয়ারে 0.5 kg, সাগরে 0.5 CBM। চালান তার চেয়ে ছোট হলেও বিল হবে ওই সর্বনিম্ন ধরে।
এখানেই বেশিরভাগ তুলনা গোলমাল হয়ে যায়। এয়ারের 0.5 kg প্রায় কিছুই না, একটা খামও এর চেয়ে ভারী। কিন্তু সাগরের 0.5 CBM মানে 500,000 cm³ জায়গা। এয়ারের ভাজকে বসালে সেই জায়গার আয়তনিক ওজন দাঁড়ায় 500,000 ÷ 6000 = 83.3 kg। অর্থাৎ আপনার চালানের আয়তন যদি এয়ারের হিসাবে 83.3 kg-এর অনেক নিচে থাকে, সাগরপথে আপনি এমন জায়গার বিল দেবেন যা আপনার কার্টন দখলই করছে না।
একই চালান দুই পথে — তিন কার্টন আর পনেরো কার্টন
ধরুন জুতার স্টক। প্রতিটা কার্টন 60 × 40 × 35 cm, ওজন 11.0 kg। প্রথমে তিনটে কার্টনের ছোট একটা চালান দুই পথে হিসাব করা যাক।
উদাহরণ — 3 কার্টন জুতা, 60 × 40 × 35 cm, প্রতিটা 11.0 kg
এক কার্টনের আয়তন
84,000 cm³
প্রকৃত ওজন, মোট
33.0 kg
এয়ার: আয়তনিক ওজন (84,000 ÷ 6000 × 3)
42.0 kg
এয়ারে চার্জেবল
আয়তনিক
42.0 kg
সাগর: আসল আয়তন (84,000 ÷ 1,000,000 × 3)
0.252 CBM
সাগরে বিলযোগ্য
সর্বনিম্ন
0.5 CBM
এয়ারে বিল হবে 42.0 kg ধরে — আয়তনিক ওজন প্রকৃত ওজনকে ছাড়িয়ে গেছে। সাগরে কার্টনগুলো জায়গা নিচ্ছে 0.252 CBM, অথচ বিল হবে 0.5 CBM ধরে। প্রায় দ্বিগুণ জায়গার বিল, যার অর্ধেকটা খালি। এত ছোট চালানে সাগরপথের সময় দেওয়ার পরও সুবিধার বড় অংশ ওই সর্বনিম্নেই খেয়ে যায়।
এবার একই কার্টন পনেরোটা। প্রকৃত ওজন 165.0 kg, এয়ারে আয়তনিক ওজন 210.0 kg, তাই এয়ারে চার্জেবল 210.0 kg। সাগরে আয়তন 0.084 × 15 = 1.26 CBM, যা সর্বনিম্নের অনেক উপরে, তাই বিলও হবে ঠিক 1.26 CBM। এখন সাগরপথে আপনি শুধু নিজের দখল করা জায়গার দাম দিচ্ছেন।
মাঝখানের সীমাটাও বের করা যায়। 0.5 ÷ 0.084 = 5.95, অর্থাৎ এই মাপের ছয়টা কার্টন (0.504 CBM) থেকে সাগরপথ সর্বনিম্নের বাইরে আসে। পাঁচটা পর্যন্ত যত কার্টনই পাঠান, সাগরে বিল 0.5 CBM-ই থাকবে। তাই ছোট চালান হাতে থাকলে দুটো পথ খোলা: এয়ারে পাঠানো, অথবা আরও কয়েক সাপ্লায়ারের মাল ওয়্যারহাউজে জমা হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করা। ওয়্যারহাউজে 30 দিন পর্যন্ত রাখার ভাড়া লাগে না, তাই বিভিন্ন সাপ্লায়ারের কার্টন এক চালানে মিলিয়ে সর্বনিম্ন পার হওয়ার সুযোগ থাকে।
দুই পথের ভাড়া মেলানোর আগে নিজের চালানের দুটো সংখ্যা লিখে রাখুন: এয়ারে চার্জেবল কত kg, আর সাগরে বিলযোগ্য কত CBM। তুলনাটা হয় এই দুটোর উপর ভাড়া বসিয়ে, কার্টনের ওজনের উপর নয়।
পণ্যের ধরন কোন দিকে ঠেলে দেয়
ঘনত্ব এখানে বড় ভূমিকা রাখে। ছোট অথচ ভারী পণ্যে এয়ারের আয়তনিক হিসাব কোনো বাড়তি চাপ দেয় না — একটা 40 × 30 × 25 cm কার্টনে মোবাইল অ্যাকসেসরিজ ভরে ওজন 16.0 kg হলে আয়তনিক ওজন মাত্র 5.0 kg, বিল হয় প্রকৃত 16.0 kg ধরে। সেই কার্টনের আয়তন 0.03 CBM, তাই সাগরে সর্বনিম্ন পার হতে এমন 17টা কার্টন লাগবে। হালকা অথচ জায়গা-খাওয়া পণ্যে ছবিটা উল্টো: এয়ারে আয়তনিক ওজন অনেক বেশি দাঁড়ায়, আর সাগরের CBM হিসাব সেই জায়গার দামটাকে সরাসরি ধরে।
| পণ্য বা চালানের ধরন | এয়ারে বিল যেভাবে বসে | কোন দিকে ঝোঁকে |
|---|---|---|
| কাপড়, জুতা, খেলনা — বড় চালান | আয়তনিক ওজন জেতে, প্রকৃতের চেয়ে বেশি | সি, যদি চালান 0.5 CBM পার হয় |
| একই পণ্য, এক-দুই কার্টন | আয়তনিক ওজন জেতে | এয়ার, অথবা কনসলিডেশনের জন্য অপেক্ষা |
| মোবাইল অ্যাকসেসরিজ, যন্ত্রাংশ | প্রকৃত ওজন জেতে, আয়তনিক কম | এয়ার, ছোট থেকে মাঝারি চালানে |
| ভারী অথচ বড় চালান, তাড়া নেই | প্রকৃত বা আয়তনিক, দুটোই বড় | সি |
| লিথিয়াম ব্যাটারিযুক্ত পণ্য | ওজনের আগে carrier-এর নিয়ম | অর্ডারের আগে ডেস্কে জিজ্ঞেস করুন |
টেবিলটা প্রবণতা, নিয়ম নয়। একই পণ্য দুই সাপ্লায়ার দুই রকম প্যাক করলে উত্তর বদলে যায়, তাই সাপ্লায়ারের কাছে কার্টনের মাপ আগেই চেয়ে নিন।
টাকা কতদিন পথে আটকে থাকবে
সময়ের প্রশ্নটা শুধু ধৈর্যের নয়, নগদ টাকার। সাপ্লায়ারকে দাম দেওয়ার দিন থেকে মাল বিক্রি হওয়া পর্যন্ত টাকাটা আটকে থাকে। সাগরপথে এই সময়টা এয়ারের চেয়ে অনেক লম্বা। দুই পথের নির্দিষ্ট দিনের হিসাব আমরা এখনো প্রকাশ করছি না, তবে পার্থক্যটা কয়েক দিনের নয় — তাই এয়ার না সাগর, সেটা ঠিক করতে হয় অর্ডার দেওয়ার সময়, মাল ওয়্যারহাউজে পৌঁছানোর পরে নয়।
দুই পথের একটা অংশ একই। বেশিরভাগ চালান চীনের ওয়্যারহাউজে পৌঁছানোর 3-4 দিনের মধ্যে রওনা হয়। তারপর এয়ারের মাল নামে ঢাকায়, আর সাগরের মাল চট্টগ্রাম বন্দরে। আমাদের সাইটের এয়ার রেট চীন থেকে ঢাকা পর্যন্ত, যেখানে শুল্ক, ভ্যাট ও হোম ডেলিভারি অন্তর্ভুক্ত নয়। সি রেট চীন থেকে চট্টগ্রাম বন্দর পর্যন্ত, আর সেখানে পোর্ট চার্জ, শুল্ক ও হোম ডেলিভারি আলাদা। দুই পথের খরচ মেলানোর সময় এই আলাদা লাইনগুলোও তালিকায় রাখুন।
বন্দরে পৌঁছানোর পর কাস্টমসের একটা ঘড়িও চলে, আর সেটা দুই পথে আলাদা। বাংলাদেশ কাস্টমসের প্রকাশিত নিয়মে কাস্টমস বিমানবন্দরে নামার 21 দিনের মধ্যে, আর সমুদ্রবন্দরে নামার 30 দিনের মধ্যে খালাস না হলে মাল নিলামে উঠতে পারে, যদি না কর্মকর্তা সময় বাড়ান। কাগজপত্র তৈরি না থাকলে এই সময় দ্রুত ফুরোয়।
তাই অনেক বিক্রেতা দুই পথই চালান। মৌসুমের বড় স্টক যায় সাগরে, আগেভাগে। আর যে পণ্যটা হঠাৎ বেশি বিক্রি হয়ে স্টক শেষ হয়ে গেল, তার ছোট চালান যায় এয়ারে। সব মাল এয়ারে পাঠালে এমন গতির দাম দিচ্ছেন যা সবসময় লাগে না; সব সাগরে পাঠালে সবচেয়ে বেশি বিক্রির পণ্যটাই দোকানে থাকে না।
এক চালানে কয়েক কার্টন হলে এক্সপ্রেস কুরিয়ারও একটা বিকল্প মনে হতে পারে। সেখানে ভাজক আলাদা, তাই কুরিয়ারের ÷ 5000 আর কার্গোর ÷ 6000 হিসাবের তফাত দেখে নেওয়া ভালো।
কিছু পণ্যে প্রশ্নটা মাধ্যমের আগে আসে
লিথিয়াম ব্যাটারি এমন একটা জিনিস যা সাধারণ পণ্যের ভিতরেই লুকিয়ে থাকে — ব্লুটুথ স্পিকার, স্মার্টওয়াচ, রিচার্জেবল খেলনা। IATA-র নিয়মে বিমানে লিথিয়াম ব্যাটারি ডেঞ্জারাস গুডস, সাধারণ কার্গো নয়। ব্যাটারি যন্ত্রের ভিতরে বসানো, নাকি আলাদা — এতে নিয়ম বদলায়। আলাদা পাওয়ার ব্যাংক সবচেয়ে কঠিন ক্ষেত্র। কোনটা বিমানে উঠবে, সেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত এয়ারলাইনের, অর্থাৎ carrier-এর।
ভুলটা ধরা পড়লে সাধারণত দেরি হয় না, মাল আটকে যায় — কার্টন চীনের ওয়্যারহাউজেই পড়ে থাকে। তাই ব্যাটারিযুক্ত পণ্য অর্ডার দেওয়ার আগে পণ্যের নাম আর ব্যাটারির ধরন নিয়ে ডেস্কে জিজ্ঞেস করুন। একই কথা খাটে চাপযুক্ত স্প্রে ক্যান বা দাহ্য কোনো কিছুর ক্ষেত্রে: আগে জিজ্ঞেস, তারপর অর্ডার।
এয়ার আর সি নিয়ে যা জানতে চাওয়া হয়
এয়ার কার্গো না সি কার্গো — ছোট চালানে কোনটা?
চালানের মোট আয়তন 0.5 CBM-এর নিচে হলে সাগরেও বিল হবে 0.5 CBM ধরে। সেক্ষেত্রে সাধারণত এয়ার, অথবা আরও কার্টন জমা হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা। আয়তন সর্বনিম্ন ছাড়িয়ে গেলে, পণ্য হালকা ও জায়গা-খাওয়া হলে, আর তাড়া না থাকলে সাগর বিবেচনা করুন।
এয়ার ফ্রেইটেও কি CBM হিসাব হয়?
মাপ একই তিনটে, কিন্তু এয়ারে বিল CBM-এ নয়, কেজিতে। তিন মাপ গুণ করে 6000 দিয়ে ভাগ করলে আয়তনিক ওজন পাওয়া যায়, আর সেটা প্রকৃত ওজনের চেয়ে বেশি হলে সেটাই চার্জেবল। CBM লাগে সাগরপথের বিলে।
চীন থেকে সাগরপথে মাল কোথায় নামে?
চট্টগ্রাম বন্দরে। আমাদের সি রেট চীন থেকে চট্টগ্রাম বন্দর পর্যন্ত, পোর্ট চার্জ, শুল্ক ও হোম ডেলিভারি আলাদা। এয়ারের মাল নামে ঢাকায়।
চীন থেকে সাগরপথে কত দিন লাগে?
নির্দিষ্ট দিনের সংখ্যা আমরা এখন দিচ্ছি না। যা জানা: বেশিরভাগ চালান ওয়্যারহাউজে পৌঁছানোর 3-4 দিনের মধ্যে রওনা হয়, সাগরপথ এয়ারের চেয়ে অনেক বেশি সময় নেয়, আর বন্দরে নামার পর খালাসের জন্য কাস্টমস 30 দিন সময় দেয়।
নিজের চালান দুই পথে হিসাব করুন
কার্টনের মাপ, সংখ্যা আর ওজন দিলে এয়ারে চার্জেবল ওজন আর সাগরে CBM পাশাপাশি দেখা যায় — কোনটায় সর্বনিম্ন লাগছে, সেটাও।