গুয়াংজুর দুই সাপ্লায়ারের কাছ থেকে কিছু স্টক কিনলেন। একজন জিজ্ঞেস করল, DHL-এ পাঠিয়ে দেব? অন্যজন বলল, আপনার কার্গো এজেন্টের ঠিকানা দিন। দুটো প্রস্তাবই চলে, কিন্তু কুরিয়ার ও কার্গো এক জিনিস নয় — বিল হয় আলাদা নিয়মে, পার্সেল চলে আলাদা পথে, আর কাস্টমসের কাজটাও করে আলাদা লোক।
কোনটা ভালো, সেই প্রশ্নের এক কথায় উত্তর নেই। উত্তর নির্ভর করে চালানটা কেমন তার উপর: কত বড়, কত সাপ্লায়ারের, আর কত তাড়া। নিচের হিসাবগুলো জানা থাকলে প্রতিটা অর্ডারে নিজেই ঠিক করতে পারবেন।
কুরিয়ার আর কার্গো — কাজের ধরনটাই আলাদা
এক্সপ্রেস কুরিয়ার, যেমন DHL বা FedEx, পুরো পথটা নিজেরাই চালায়। সাপ্লায়ারের দরজা থেকে পার্সেল তোলে, নিজেদের নেটওয়ার্কে উড়িয়ে আনে, নিজেদের লোক দিয়ে কাস্টমসের কাগজ সারে, তারপর আপনার দরজায় দেয়। প্রতিটা পার্সেল আলাদা একটা চালান — নিজের ট্র্যাকিং নম্বর, নিজের বিল।
কার্গোতে পণ্য আগে এক জায়গায় জড়ো হয়। আমাদের ক্ষেত্রে সেটা গুয়াংজুর ওয়্যারহাউজ: সাপ্লায়াররা চীনের ভিতরের ডেলিভারিতে সেখানে পাঠায়, আমরা মিলিয়ে নিয়ে দরকার হলে রিপ্যাক করি, তারপর অনেক গ্রাহকের পণ্য একসাথে এয়ারলাইনের কার্গো জায়গায় বা জাহাজে ওঠে। ঢাকায় কাস্টমস ছাড়ের পর যার যার পণ্য আলাদা হয়।
| বিষয় | এক্সপ্রেস কুরিয়ার | কনসলিডেটেড কার্গো |
|---|---|---|
| কে বহন করে | কুরিয়ার কোম্পানি নিজেই, শুরু থেকে শেষ | ফরওয়ার্ডার, এয়ারলাইন বা শিপিং লাইনের জায়গা নিয়ে |
| বিলের একক | প্রতিটা পার্সেল আলাদা | পুরো চালান একসাথে |
| আয়তনিক ওজনের ভাজক | সাধারণত 5000 | আমাদের হিসাবে 6000 |
| কয়েক সাপ্লায়ারের পণ্য | প্রতিজনের পার্সেল আলাদা আসে | ওয়্যারহাউজে এক চালানে মেলে |
| সাগরপথ | নেই | আছে, CBM ধরে বিল |
| যেখানে মানায় | স্যাম্পল, কাগজ, একটা জরুরি ছোট পার্সেল | বিক্রির স্টক, নিয়মিত অর্ডার, ভারী বা বড় চালান |
একই কার্টন, দুই রকম ওজন
সবচেয়ে বড় তফাতটা বিলের ওজনে, আর সেটা অনেকেই খেয়াল করেন না। দুই সেবাতেই বিল হয় প্রকৃত ওজন আর আয়তনিক ওজনের মধ্যে যেটা বেশি সেটা ধরে। কিন্তু আয়তনিক ওজন বের করার ভাজকটা আলাদা। DHL Express নিজের আয়তনিক ওজনের ক্যালকুলেটরে সেন্টিমিটারের মাপ গুণ করে 5000 দিয়ে ভাগ করে, আর জানায় দেশ ও সেবা ভেদে এটা বদলাতে পারে। আমাদের ভাজক 6000। ভাজক বড় মানে ভাগফল ছোট, অর্থাৎ একই কার্টনের আয়তনিক ওজন কম দাঁড়ায়।
একটা হালকা অথচ জায়গা-খাওয়া কার্টন ধরে দেখা যাক — ধরুন ভাঁজ করা জামা।
উদাহরণ — 50 × 40 × 40 cm, প্রকৃত ওজন 9.0 kg
কার্টনের আয়তন
80,000 cm³
কুরিয়ারের হিসাবে (÷ 5000)
16.0 kg
আমাদের হিসাবে (÷ 6000)
13.3 kg
দুই হিসাবে তফাত
আয়তনিক
2.7 kg
দুই ক্ষেত্রেই আয়তনিক ওজন প্রকৃত ওজনকে ছাড়িয়ে যায়, তাই বিল হয় আয়তনিক ধরে। তফাতটা এক কার্টনে 2.7 kg, দশ কার্টনে 27 kg। ভারী আর ছোট পণ্যে, যেখানে প্রকৃত ওজনই জেতে, ভাজকের এই তফাত কোনো কাজে আসে না। দুই ওজনের হিসাব নিয়ে বিস্তারিত আছে প্রকৃত আর আয়তনিক ওজন কীভাবে বিলে ওঠে লেখায়।
আরেকটা জিনিস মনে রাখার মতো: DHL Express নিজের ওজন মাপার নির্দেশিকায় জানায়, প্রতিটা পার্সেলের ওজন উপরের আধা কেজিতে তুলে নেওয়া হয়। নিজের কোটেশনে ধাপটা মিলিয়ে নিন — তিন সাপ্লায়ারের তিনটে পার্সেল আলাদা এলে এই বাড়তি অংশ তিনবার জমে।
কুরিয়ার বনাম ফ্রেইট ফরওয়ার্ডার
অনেকে এই প্রশ্নটা অন্যভাবে করেন — courier না freight forwarder। এখানে ফরওয়ার্ডার মানে সেই প্রতিষ্ঠান যার নিজের প্লেন বা জাহাজ নেই, কিন্তু এয়ারলাইন আর শিপিং লাইনের কাছ থেকে জায়গা নিয়ে চালান পাঠায়, কাগজপত্র তৈরি করে, আর কাস্টমস ছাড়ের কাজ গুছিয়ে দেয়। LogiBangla এই দলে।
কুরিয়ারের সুবিধা হলো এক হাতে পুরো কাজ, আর গতির জন্যই সেবাটা সাজানো। ফরওয়ার্ডারের সুবিধা জায়গা ভাগ করে নেওয়ায়: অনেকের পণ্য এক চালানে যায় বলে বড় বা ভারী চালান পাঠানো সহজ হয়, সাগরপথ খোলা থাকে, আর ওয়্যারহাউজে পণ্য জড়ো করার সুযোগ থাকে। ওয়্যারহাউজে 30 দিন পর্যন্ত বিনা ভাড়ায় রাখা যায়, তাই দেরিতে পাঠানো সাপ্লায়ারের জন্য বাকিদের পণ্য আটকে রেখে বাড়তি খরচ গুনতে হয় না।
একটা জিনিস দুই পথেই একই: কাস্টমস। কুরিয়ারে এলেও বাণিজ্যিক পণ্যের শুল্কায়ন হয়, আর যে পণ্যে আগে অনুমোদন লাগে সেখানে অনুমোদন লাগেই। কসমেটিকসে BSTI, তারবিহীন যন্ত্রে BTRC — কোন পণ্যে BSTI বা BTRC অনুমোদন লাগে সেটা পাঠানোর পথ বাছার আগেই দেখে নেওয়া ভালো।
কোন চালানে কোনটা — তিনটে প্রশ্ন
প্রতিটা অর্ডারের আগে এই তিনটে প্রশ্ন করলেই বেশিরভাগ ক্ষেত্রে উত্তর বেরিয়ে আসে।
01
চালানটা কি বিক্রির স্টক? একটা স্যাম্পল বা কাগজের খাম হলে কুরিয়ারই সহজ — ওজন কম, আয়তনিক হিসাবের তফাত সামান্য। বিক্রির জন্য কয়েক কার্টন হলে কার্গোর ভাজক আর একসাথে বিল হওয়ার সুবিধা কাজে আসে।
02
কয়জন সাপ্লায়ারের কাছ থেকে আসছে? একজনের এক পার্সেল হলে তফাত কম। তিন-চারজনের হলে কুরিয়ারে প্রত্যেকটা আলাদা চালান, আলাদা বিল। ওয়্যারহাউজে জড়ো হলে সব মিলে এক চালান, আর বাড়তি বাক্স ফেলে দিয়ে আয়তনও কমানো যায়।
03
তাড়া কতটা, আর পণ্য কত বড়? খুব জরুরি আর ছোট হলে কুরিয়ারের গতির দাম দেওয়া যুক্তিসঙ্গত। বড় আর ভারী চালানে, যেখানে তাড়া কম, সাগরপথও ভাবা যায় — তবে সেখানে সর্বনিম্ন 0.5 CBM ধরে বিল হয়, তাই একটা-দুটো কার্টনের জন্য সাগরপথ সাধারণত লাভের হয় না।
কার্গো বাছলে সাপ্লায়ারকে DHL-এর বদলে চীনের ভিতরের ঠিকানায় পাঠাতে বলতে হয়। সেই ঠিকানার কোন লাইনে কী বসাতে হয় — Recipient, Shipping Mark, ফোন — সেটা ওয়্যারহাউজের ঠিকানা লেখার নিয়মে লাইন ধরে দেওয়া আছে।
পাঠকেরা যা জানতে চান
ছোট অনলাইন ব্যবসার জন্য কুরিয়ার না কার্গো?
নিয়মিত স্টক আনলে সাধারণত কার্গো। কয়েক সাপ্লায়ারের পণ্য এক চালানে আসে, আয়তনিক ওজন বের হয় 6000 ভাজকে, আর রিপ্যাক করে বাক্সের ফাঁকা জায়গা কমানো যায়। শুধু স্যাম্পল বা একটা জরুরি পার্সেলের জন্য কুরিয়ার সুবিধার।
কুরিয়ারে আনলে কি কাস্টমস লাগে না?
লাগে। বাণিজ্যিক পণ্য যে পথেই আসুক, শুল্কায়ন হয়, আর BSTI বা BTRC-র মতো অনুমোদন লাগলে সেটাও লাগে। কুরিয়ারে তফাত শুধু এই যে কাগজের কাজটা কুরিয়ার কোম্পানি নিজে সারে।
সাপ্লায়ার শুধু DHL-এ পাঠাতে চাইলে কী করবেন?
বেশিরভাগ চীনা সাপ্লায়ার দেশের ভিতরের কুরিয়ারেও পাঠায়। চীনের ঠিকানাটা দিয়ে বলুন ওখানে পাঠাতে। রাজি না হলে চালানটা ছোট কি না দেখে নিন — ছোট হলে DHL-ও চলতে পারে।
নিজের কার্টনটা মেপে দেখুন
তিনটে মাপ আর ওজন দিলে চার্জেবল ওজন, আর কোন ভিত্তিতে বিল হবে — প্রকৃত না আয়তনিক — এক পাতায়।