চায়না থেকে প্রোডাক্ট আনতে কত খরচ, এই প্রশ্নের উত্তর একটা অঙ্কে হয় না। খরচটা আসে কয়েকটা আলাদা লাইনে, আলাদা মানুষের কাছ থেকে, আলাদা সময়ে। বেশিরভাগ লাইন অর্ডার দেওয়ার আগেই বের করা যায়। একটা জানা যায় কাস্টমস ছাড়ের পরে। কোন লাইন কোন দলে, সেটা জানা থাকলে বিক্রির দাম ঠিক করার সময় আন্দাজে চলতে হয় না।
খরচের ছয়টা লাইন
একটা চালানের পুরো খরচ মোটামুটি এই ছয় ভাগে ভাঙে। শেষ কলামটাই আসল — কখন অঙ্কটা হাতে আসে।
| লাইন | কে ঠিক করে | কখন জানা যায় |
|---|---|---|
| পণ্যের দাম | সাপ্লায়ার | অর্ডারের আগে |
| চীনের ভিতরে ওয়্যারহাউজ পর্যন্ত ডেলিভারি | সাপ্লায়ার | অর্ডারের আগে, জিজ্ঞেস করলে |
| টাকা পাঠানোর খরচ | ব্যাংক বা এজেন্ট | পেমেন্টের দিন |
| ফ্রেইট | কার্টনের চার্জেবল ওজন | মাপ আর ওজন হাতে পেলে, অর্ডারের আগে |
| আমদানি শুল্ক, ভ্যাট ও পোর্ট চার্জ | কাস্টমস — HS কোড আর মূল্য ধরে | কাস্টমস ছাড়ের পরে |
| দেশের ভিতরের ডেলিভারি | ঢাকার ভিতরে না বাইরে | ইনভয়েসে, আলাদা লাইনে |
পণ্যের দাম আর চীনের ভিতরের ডেলিভারি
সাপ্লায়ারের দামটা তার দোকান পর্যন্ত। ওয়্যারহাউজ পর্যন্ত পৌঁছানোর খরচ কখনো দামের ভিতরে ধরা থাকে, কখনো আলাদা যোগ হয় — চীনা পাতায় সেটা লেখা থাকে 运费। দুটো লাইন একসাথে দেখুন, নইলে কম দামের দোকানটা আসলে কম কি না বোঝা যায় না।
পরিমাণ বাড়লে দাম কমে, আর বেশিরভাগ সাপ্লায়ার ধাপে ধাপে দাম লিখে রাখে। অর্ডারের পরিমাণ ঠিক করার আগে পরের ধাপটা কোথায়, দেখে নিন। আলিবাবার সাপ্লায়ারকে টাকা পাঠানোর আগে কী কী জিজ্ঞেস করবেন, সেই তালিকা আলাদা লেখায় আছে।
টাকা পাঠানোর খরচ ছোট লাইন, কিন্তু বাদ পড়ে সবচেয়ে বেশি। ব্যাংকের ফি, বিনিময় হার, আর এজেন্টের মাধ্যমে কিনলে এজেন্টের ফি — সবই এই লাইনে। হার বদলায়, তাই হিসাবটা পেমেন্টের দিনের হারে করুন।
ফ্রেইট — যে লাইনটা মাপ দিয়েই বের হয়
আকাশপথে বিল হয় চার্জেবল ওজনে। প্রকৃত ওজন আর আয়তনিক ওজনের মধ্যে যেটা বেশি, সেটাই। আয়তনিক ওজন = (দৈর্ঘ্য × প্রস্থ × উচ্চতা সেমি) ÷ 6000। ফোন কভারের মতো হালকা পণ্যে কার্টনের আয়তনটাই সাধারণত জেতে:
উদাহরণ — ফোন কভারের এক কার্টন, 200 পিস
কার্টনের মাপ
60 × 40 × 40 cm
প্রকৃত ওজন
12.0 kg
আয়তনিক ওজন (96,000 ÷ 6000)
16.0 kg
চার্জেবল ওজন
আয়তনিক
16.0 kg
এখানে বিল হবে 16.0 kg-এ, 12.0 kg-এ নয়। ফ্রেইট তাই রেট গুণ 16.0। সাপ্লায়ারের কাছে কার্টনের তিনটে মাপ আর ওজন আগেই চেয়ে নিলে এই লাইনটা অর্ডারের আগে বসে যায়। কার্টনের কোন ওজনটা বিলে ওঠে, আর কীভাবে কমে, উদাহরণসহ আলাদা লেখায় আছে।
শুল্ক আর ভ্যাট — যে লাইনটা পরে আসে
শুল্কের হার পণ্যের HS কোডে বাঁধা, আর হিসাব হয় পণ্যের মূল্যের উপর। হারগুলো জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের শুল্ক তালিকায় পাওয়া যায়। কিন্তু কাস্টমস কোন কোডে পণ্যটা ধরবে আর কোন মূল্য মেনে নেবে, সেটা ঠিক হয় ছাড়ের সময়। তাই চূড়ান্ত অঙ্ক আসে কাস্টমস ছাড়ের পরে। এই লাইনটা ফ্রেইটের দামে ধরা নেই।
কিছু পণ্যে এর আগেও একটা ধাপ থাকে। প্রসাধনী বা বাধ্যতামূলক মানের পণ্যে BSTI, ওয়্যারলেস যন্ত্রে BTRC-র অনুমোদন লাগতে পারে, আর তার সময় ও খরচ আলাদা। কোন পণ্যে BSTI বা BTRC অনুমোদন লাগে, কেনার আগে দেখে নিন।
প্রতি পিসে ভাগ করুন
বিক্রির দাম বসে প্রতি পিসে, খরচ আসে প্রতি চালানে। মাঝখানের ভাগটা না করলে লাভের হিসাব ভুল হয়। ওপরের কার্টনে 200 পিস আর চার্জেবল ওজন 16.0 kg, অর্থাৎ প্রতি পিসে 0.08 kg ফ্রেইট ওজন। বাকি লাইনগুলোও একইভাবে ভাগ করুন।
দুটো কার্টন যদি একই পরিমাণ পণ্য ধরে, ছোট কার্টনটা প্রতি পিসে কম ফ্রেইট ওজন তোলে। রিটেইল বাক্স খুলে একসাথে প্যাক করালে, বা কয়েক সাপ্লায়ারের পার্সেল এক চালানে জোড়া দিলে, এই ভাগফলটাই কমে।
খরচ নিয়ে আরও তিনটে প্রশ্ন
চায়না থেকে প্রোডাক্ট আনতে কত খরচ হয়?
ছয়টা লাইনের যোগফল: পণ্যের দাম, চীনের ভিতরের ডেলিভারি, টাকা পাঠানোর খরচ, ফ্রেইট, শুল্ক-ভ্যাট আর দেশের ভিতরের ডেলিভারি। শুল্ক ছাড়া বাকিগুলো অর্ডারের আগেই বের করা যায়। ফ্রেইটের অংশটা আসে কার্টনের চার্জেবল ওজন থেকে।
চায়না থেকে পার্সেল আনার নিয়ম কী?
সাপ্লায়ার পার্সেলটা চীনের ভিতরের একটা ঠিকানায় পাঠায়, সেখান থেকে ফ্রেইট আর কাস্টমস পেরিয়ে দেশে আসে। ঠিকানার Recipient আর Shipping Mark লাইন ঠিক থাকা চাই — ঠিকানার কোন লাইনে কী বসে, আলাদা পাতায় আছে।
খরচ কমানোর উপায় কী?
ফ্রেইটের লাইনেই সবচেয়ে বেশি হাত দেওয়া যায়। আয়তনিক ওজন কমান — বাড়তি বাক্স বাদ দিয়ে, কয়েক অর্ডার এক চালানে এনে। একসাথে আনলে সর্বনিম্ন চার্জও একবারই লাগে।
ফ্রেইটের লাইনটা আগেই বের করুন
মাপ বসালে চার্জেবল ওজন আর তার ভিত্তি — প্রকৃত না আয়তনিক — এক পাতায় দেখা যায়।